Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / তুরস্ক: ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জানা ও অজানা

তুরস্ক: ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জানা ও অজানা

  • ১৬-০৭-২০১৬
  • 20hfgrগত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়। সেনাবাহিনী থেকে বের হয়ে আসা একাংশ এই অভ্যুত্থান চেষ্টা করে। ক্ষমতা দখলের চেষ্টাকালীন সময়ে কমপক্ষে ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা হুরিয়েত নিউজের প্রকাশিত খবরে। অভ্যুত্থানকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবন ও সংসদে দখল নেবার চেষ্টা করলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসে এবং এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষীয় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক ভাষণে এরদোয়ান অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন এবং প্রায় আট শতাধিক অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরেও এমন কিছু ঘটনা আছে যা আমরা তুরস্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে জানি এবং কিছু আছে জানি না। সেই জানা এবং অজানা বিষয়গুলো সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র এই বিশ্লেষণে।

    যা আমরা জানি
    শনিবার সকালে অজ্ঞাত কোনো এক স্থান থেকে ইস্তামবুলে আসেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। রাজধানীর আতাতুর্ক বিমানবন্দরে দাড়িয়ে ভাষণ দেবার সময় তিনি এই অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য সেনাবাহিনীর ভেতরকার একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠিকে দায়ি করেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে, যারা এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে তাদের চরম মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও প্রেসিডেন্টের দাবি অনুসারে, গত শুক্রবার তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর মারমারিসের এক বোমা হামলার মাধ্যমে তাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল।

    অভ্যুত্থানকারীরা দেশের সর্বত্র নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারেনি। এরদোয়ানের সমর্থকরা ইস্তামবুলের রাস্তার দখল নিয়ে নেয় অভ্যুত্থান চেষ্টা হওয়া মাত্র। রাষ্ট্রায়াত্ব বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, মোট ৭৫৪জন অভ্যুত্থানকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এরদোয়ানের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যুত্থানকারীদের হাতে কমপক্ষে ৬০ জন মারা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই সাধারণ জনগণ, যারা দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে অভ্যুত্থানকারী সদস্যদের হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলির আঘাতে ১৭ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। আর জাতীয় সংসদের কাছে এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেখানে ১২জন নিহত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে নির্বাসিত জীবনযাপনরত ফেতুল্লা গুলেন একজন ইসলামি চিন্তাবিদ। এরদোয়ানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল। ধারণা করা হয়, তুরস্ক সরকারের মধ্যে ফেতুল্লা গুলেনের অনেক সমর্থক গোপনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছিল এবং তাদের পক্ষ থেকেই এই অভ্যুত্থান চেষ্টা করা হয়। অবশ্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার বিমানবন্দরের ভাষণেও ফেতুল্লার প্রতি সন্দেহের তীর ছোড়েন।

    যা আমরা জানি না
    এটা এখনও পরিস্কার নয় যে, অভ্যুত্থানপন্থীরা কিভাবে রাষ্ট্রায়াত্ব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনার নিয়ন্ত্রন নিজেদের কাছে নিয়ে নিল। এমনকি এই অভ্যুত্থানের পেছনে কে তাও এখনও জানা যায়নি। তুরস্কের সেনাবাহিনীর মধ্যে এই অভ্যুত্থানের সমর্থন কতটুকু তাও চিন্তার বিষয়। কারণ সেনাবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মদদ ছাড়া রাজধানীর মতো জায়গায় এমন অভ্যুত্থান চেষ্টা খুব একটা সহজ নয়। কার্যত, ১৯৬০ সাল থেকেই তুরস্কের একের পর এক অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে। সর্বশেষ এবার পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালানো হলো।

    সাম্প্রতিক সময়ে এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে মারাত্মক চরমপন্থা, সিরিয়া থেকে আগত লক্ষাধিক শরণার্থীর চাপ ইত্যাদি কারণ গত এক বছর ধরে এরদোয়ানকে স্বস্তি দিচ্ছে না। এমনকি নিজ দেশের একাংশকে জোরপূর্বক শত্রু হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সামনে তুলে ধরে কুর্দিদের উৎখাত করার চেষ্টা অনেকদিন ধরেই এরদোয়ান করে যাচ্ছেন।

    নেপথ্য শক্তি

    তার্কিশ আর্মড ফোর্সেস
    তুরস্কের সেনাবাহিনী একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনী দেশটির সেক্যুলার নীতির প্রতি আস্থাশীল হয়ে এর অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ে অনেকবারই রাজনীতির মঞ্চে প্রবেশ করেছে সেনাবাহিনী। এর আগেও ১৯৬০ সাল পরবর্তীতে আরও তিনটি অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয় তার্কিশ আর্মড ফোর্সেস। এমনকি ১৯৯৭ সালে এক ইসলামিস্ট প্রধানমন্ত্রীকেও উৎখাত করে সেনাবাহিনী। ঐতিহাসিকভাবেই তার্কিশ সেনাবাহিনী নিজ দেশের বাইরে কোনো সেনা অভিযান চালানোর পক্ষে নয়। কিন্তু এটা ঠিক করে জানা যায় না যে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এমন কতজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন যারা সিরিয়াতে তার্কিশ আগ্রাসনের পক্ষাবলম্বন করছে।

    প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান
    একজন ইসলামিস্ট ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে এরদোয়ান প্রায় এক দশক দেশটির রাজনীতির কেন্দ্রে ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠদের রাজধানীতে প্রবেশের ও বক্তব্য দানের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ক্ষমতায় বসেন এরদোয়ান। যদিও ক্ষমতায় বসার পর বর্তমানে ক্রমশ তার স্বোচ্ছাচারিতা বেড়েই চলছে এবং এরফলে অনেক তুর্কিই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে। যদিও ওই প্রতিবাদ সমাবেশগুলোকে কৌশলে ভন্ডুল করে দিচ্ছেন এরদোয়ান তার ক্ষমতা ব্যবহার করে।

    ফেতুল্লা গুলেন
    ফেতুল্লা গুলেন হলেন একজন সাবেক ইমাম ও তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘণিষ্ঠজন ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তুরস্কের ক্ষমতাসীনদের চেয়েও গুলেনের আদর্শ অনেক বেশি উদারনৈতিক হওয়ায় দেশটির পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীতে তার অনেক অনুগামী থাকলেও সেনাবাহিনীতে নেই। যদিও এরদোয়ান এই অভ্যুত্থানের জন্য গুলেন ও তার সমর্থকদেরই দায়ি করেছেন এবং গুলেনকে একজন সন্ত্রাসী বলেও অভিহিত করেন। এর আগেও বারংবার এরদোয়ান তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য গুলেনকে দোষারোপ করে গেছেন।

    রিপাবলিকান পিপল’স পার্টি
    তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি যতটা মার্কিন অনুরক্ত, দেশটির প্রধান বামপন্থী পার্টিটি কিন্তু অতটা অনুরক্ত নয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। তারাও দীর্ঘদিন ধরেই এরদোয়ানকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু এই অভ্যুত্থান থেকে তারাও কোনো ফায়দা নেবার চেষ্টা করেনি উল্টো অভ্যুত্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু অতীতে অবশ্য দেখা গেছে, যতবারই তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়ে ব্যর্থ হয়েছে, প্রতিবারই বামপন্থীদের উপরই চড়াও হয়েছে সরকার।

    ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র
    ১৯৫২ সাল থেকেই তুরস্ক ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রে মিত্র। যদিও তুরস্কের নাগরিক সমাজের উপর এরদোয়ান নির্দেশিত হামলার সমালোচনা করতে ছাড়েনি ওবামা প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের চোখে এরদোয়ান হলেন ওই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্ক্ষলা নিয়ন্ত্রক। সেজন্যই মার্কিন বাহিনী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বারবার তুরস্কের সঙ্গে কাজ করছে। এমনকি তুরস্কের অনেক অন্যায্য কর্মকান্ডে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অবলীলায় সহায়তা দিয়ে আসছে।

    (Visited 10 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *