Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / জাতীয় / তবুও জামায়াতকে ছাড়ছেন না খালেদা জিয়া

তবুও জামায়াতকে ছাড়ছেন না খালেদা জিয়া

  • ১৪-০৭-২০১৬
  • iuop
    মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কোনোভাবেই এক জোটে থাকতে চাইছেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতা। তাদের চাপ সত্ত্বেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

    এদিকে, শরীক দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে ২০ দলীয় জোট। জোটের অস্তিত্ব জানান দিতে মাঝে-মধ্যে গুলশান কার্যালয়ে জোট নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সান্তনা বৈঠক হচ্ছে ঠিকই। এর বাইরে জোটগত কোনো কর্মকা- নেই বললেই চলে। তবে জোটের শরিকরা ফেসবুকে নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সক্রিয় রয়েছে। গণতন্ত্র ফিরে আনতে আন্দোলন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জোট গঠিত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবারও আন্দোলনে যাবে জোটটি। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আগে ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের মিটিং হয়েছিল।

    এরপর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো মিটিং হয়নি। শরিক দলগুলো একের পর এক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং সেগুলোর ভগ্নাংশ নিয়ে আরেকটি দল গঠনের প্রবণতাও ২০ দলীয় জোটের স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জোটের শরিক নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত, সক্রিয়-নিষ্ক্রিয়র মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য নেই। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে জোটের ভিতরে।

    কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটি পার্টি (এলডিপি), মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জেবেল রহমান গাণির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ, শফিউল আলম প্রধানের জাগপাসহ নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলকে অধিক প্রাধান্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ অন্য শরিকরা।

    সূত্রটি জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজিরবিহীন সহিংসতা, কারচুপি, প্রাণহানি ও জবরদস্তিকে ইস্যু করে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে মাঝারি মাপের কর্মসূচি দেয়ার দাবি তুলেছিল জোট শরিকরা। কিন্তু জোট প্রধান বিএনপি তা আমলে নেয়নি। জোটের প্রধানদলের শীর্ষ নেতাদের এমন মনোভাবে যারপরনাই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন শরিক দলের নেতারা।

    নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও অপারগতা মেনে নিয়ে এখন তারা নিষ্ক্রিয়। তবে জোটের শরিকদের মধ্যে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। আর ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরে চালাচ্ছে প্রচার।

    আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিকভাবে ফাঁসি হওয়ায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে দলটি। এছাড়াও এই ইস্যুতে বিএনপিকে পাশে পায়নি জামায়াত।

    আর দলের দুর্দিনে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার জোর দাবি ওঠে বিএনপিতে। এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি, জীবিত নেতাদের কারাবাস ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের আত্মগোপনের ফলে কোনো কর্মসূচিতেই এখন আর জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি নেই।

    অন্যদিকে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ায় ২০ দলের অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামী ঐক্যজোটের জনসমর্থন ও জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজপথের আন্দোলন গরম করার চেষ্টা করে বিএনপি।

    অন্য শরিক ১৭টি দলকে কোনো কর্মকাণ্ডেই ডাকা হচ্ছে না। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে করার মৌখিক ঘোষণা দিয়েও শরিক দলের কারও জন্য কোনো ইউপিতে ছাড় দেয়নি তারা। বিএনপির এমন আচরণে জোটের শরিক দলগুলোও হাল ছেড়ে দিয়েছে।

    জোটের শরিক দলের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমানকে বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নামেমাত্র আছে। এ জোটের নেতাদের সঙ্গে জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সমন্বয় নেই। যে কোনো ইস্যুতে জোটের শরিকদের কোনো মতামত নেননি তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির সিনিয়র থেকে তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মী জোটের শরিকদের মেনে নেয় না। তারা জোটের শরিকদের শত্রু মনে করেন। এভাবে তো জোট নির্ভর রাজনীতি চলতে পারে না। তাই এ জোট ভেঙে দেয়া উচিত বলে মনে করেন ওই নেতা।

    (Visited 1 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *