Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে – Songbad Protidin BD

টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে – Songbad Protidin BD

  • ০৫-০৭-২০১৭
  • 8সংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ   টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে পানি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে কুড়িগ্রাম, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল। এসব পানি সরতে শুরু করলেও পানিবন্দী হয়ে আছে কয়েক লাখ মানুষ। বাড়ছে দুর্ভোগ।
    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট বাড়ছে। প্রথমে বোরো ফসল হারানো ও পরে মাছের ক্ষতির পর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় দিশেহারা মানুষ। কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের ঘাটেরবাজার এলাকার বাসিন্দা ছাতির মিয়া বলেন, এখানে ধনী, গরিবের মধ্যে আর কোন পার্থক্য নেই। সবাই এখন এক সারিতে। প্রথমে গেছে ফসল ও মাছ। এখন বসতভিটায় পানি। সবারই এখন সাহায্য প্রয়োজন।

    জেলার বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর পাড়ের প্রামগুলোতে ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে ঘরের ভিটায়। কাঁচা ঘরের বেড়া ভেঙে পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকে ঝুঁকি নিয়েই বাড়িতে আছেন। অনেকে কচুরিপানার বেড়া দিয়ে ভিটাবাড়ি আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। বাড়ির নলকূপ ডুবে যাওয়ায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজোর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছে তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা, ইসলামপুর, কুটাউরা, বাড্ডা, নুনুয়া, পাবিজুরি, শ্রীরামপুর, মুর্শিবাদকুরা, পশ্চিম গগড়া, পূর্ব গগড়া, বড়ময়দান, গাগড়াকান্দি, তেলিমেলি, গোপালপুর, হাউদপুর; সুজানগর ইউনিয়নের দশঘরি, রাঙ্গিনগর, ঝগড়ি, বাড্ডা, পাটনা, ভোলারকান্দি, উত্তর বাঘমারা, বাঘেরকোনা, চরকোনা, পশ্চিম সালদিগা; বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল, সৎপুর, কাজিরবন্দ, নোওয়াগাঁও, উজিরপুর এবং দাসেরবাজার ইউনিয়নের চানপুর, অহিরকুঞ্জি, উত্তরবাগীরপাড়, দক্ষিণবাগীরপাড়, পানিশাইল, ধর্মদেহী, চুলারকুড়ি, কোদালী, ধলিরপাড়, নেরাকান্দি, মাইজমজুড়ি, মালিশ্রী ইত্যাদি গ্রাম। সুজানগর ইউনিয়নের ২০-২৫টির মতো কাঁচাপাকা গ্রামীণ রাস্তা নিমজ্জিত। একমাত্র নৌকাই পানিবন্দী মানুষের চলাচলের মাধ্যম। তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেক মানুষের ঘর পড়ে গেছে। অনেকে এখনও ঘর ছাড়ছে না। ত্রাণ চাহিদার তুলনায় কম।’

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলার প্রধান-প্রধান নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দ্বীপচর ও নদনদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। সদর উপজেলার হলোখানা, ভোগডাঙা, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, মোঘলবাসা, নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া, বামনডাঙ্গা, কালিগঞ্জ, উলিপুরের হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারীর অস্টমীরচর, নয়ারহাটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বীজতলা ও পাটক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

    লামা প্রতিনিধি জানান, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার বাড়িঘর, দোকান পাট ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তর। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।ভারী বর্ষণ অব্যহত থাকায় পাহাড় ধসের আশংকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মা্ইকিং করা হচ্ছে। এদিকে বান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে সোমবার বিকাল থেকে। এছাড়াও বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াই জংশন থেকে রুমা বাজার পর্যন্ত সড়কের উপর বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার লামা, আলীকদম এবং শহরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে জেলা শহরের ইসলাম পুর, শেরে বাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বার পাড়াসহ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলীয়ে গেছে। এছাড়াও লামা বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘরে পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে লোকজন। মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে বান্দরবানে আবারো জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। লামা-আলীকদমেও একই অবস্থা।

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের নিকট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ অভ্যন্তরে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই যমুনা নদীর তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় বসবাসকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান পদ্মা পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে সমতল ও নিচু এলাকায় এবং চরাঞ্চলের ২৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করছে।

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানায়, জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে হালদা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নাজিরহাট-রামগড় সেকশন-১ সড়ক। লেলাং খালের ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।

    কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, চকরিয়ায় তিনদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে উপজেলা ও পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোন কোন এলাকায় বসতঘরের চালা পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলার সঙ্গে চকরিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *