Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / জামদানি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভূক্ত – Songbad Protidin BD

জামদানি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভূক্ত – Songbad Protidin BD

  • ১৩-০৬-২০১৭
  • BSIC-Lotoসংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদক: জামদানি আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং পৃথিবীখ্যাত মসলিনের উত্তরাধিকার। এক সময় মসলিন সূক্ষèবস্ত্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। পৃথিবীর রাজা-বাদশা ও সুলতানগণ কর্তৃক সমাদৃত এ বস্ত্রের কদর ও চাহিদা ছিল প্রচুর। মসলিন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। বাংলাদেশকে হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে পরিচিত করেছিল মসলিন অর্থাৎ আজকের জামদানি। জামদানি বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমানে জামদানি শিল্প একটি ভাল পর্যায়ে এসে পৌছেছে। বাংলাদেশের জামদানি শিল্প এখন ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়াল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভূক্ত। ইউনেস্কোর জুরিবোর্ড ঐতিহ্যবাহী জামদানিকে ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ-এর তালিকাভুক্ত করেছে। এ অর্জন আমাদের গৌরবের। আজ (১৩ জুন ২০১৭) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জামদানি প্রদর্শনী ২০১৭ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক-এর পরিচালক(পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইফতেখার ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসিক-এর পরিচালক(নকশা ও বিপণন) জীবন কুমার চৌধুরী ।

    শিল্পমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন জামদানি একটি বংশানুক্রমিক কারুশিল্প। নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁও উপজেলার কয়েকটি গ্রামে যুগ যুগ ধরে জামদানি তৈরি হয়ে আসছে। বিসিক জামদানি শিল্পের উন্নয়নে কারুশিল্পীদের একই স্থানে শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ প্রদান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণন সহায়তা প্রদানের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া এখানে একটি হাটকর্ণার স্থাপিত হয়েছে। সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার এ হাটে জামদানি কারুশিল্পীরা উৎপাদিত জামদানি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আশা করছেন যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ শিল্পনগরী স্থাপিত হয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে বিসিক কর্তৃপক্ষ আরো তৎপর হবেন এবং জামদানি গবেষণা কার্যক্রমকে আরো জোরদার করবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুষেণ চন্দ্র দাস বলেন আমাদের জামদানি শিল্পকর্মের শুরুটা পুরোপুরি জানা না গেলেও প্রাচীন ইতিহাস থেকে, ঐতিহাসিক ও পর্যটকগণের অনেক সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায় যে, আমাদের ঐতিহ্যবাহী মসলিনই আজকের জামদানি। বিশেষ অঞ্চলের লোকদের শিল্পচর্চা ও শিল্প ভাবনার ফলাফলই এই জামদানি শিল্প। ব্রিটিশ শাসকদের নির্যাতন ও নিপীড়ন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার মাঝেও আমাদের জামদানি বেঁচে আছে। আর একাত্তরের স্বাধীনতার পরবর্তীকালে জামদানি কারুশিল্পীগণ কিছুটা হলেও নতুন পথের সন্ধান খোঁজে পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জামদানি শিল্পখাত বিকশিত হয়েছে, বাড়ছে এর চাহিদা ও বাজার। বিসিক দেশের গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে।

    অনুষ্ঠানে স¦াগত বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন জামদানি প্রদর্শনী কারুশিল্পীদের পণ্য বিপণনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন শুধু রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও করা যেতে পারে। জামদানিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আমাদের সাংস্কৃতির ধারক হিসাবে জামদানিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে বিসিক পরিচালক(পরিকল্পনা ও উন্ন্যন) বলেন, জামদানি শিল্প নগরী স্থাপনের লক্ষ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য জামদানির উপর প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, বিক্রয় এবং প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনসহ একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর জামদানি শিল্প নগরী গড়ে তোলার জন্য বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *