Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / জলে গেল মীর কাসেমের ২৫ মিলিয়ন ডলার!

জলে গেল মীর কাসেমের ২৫ মিলিয়ন ডলার!

  • ০৮-০৬-২০১৬
  • যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেও মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছেন না মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ও একাত্তরে চট্টগ্রামের আলবদরপ্রধান মীর কাসেম আলী। গত সোমবার আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে এই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় পাঁচ বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই করার পর তা প্রকাশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও এটি পোস্ট করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনালে মীর কাসেম আলীর বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটরদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ।

    পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিসহ একাত্তরে চট্টগ্রামে ‘বাঙালি খান’ নামে কুখ্যাত মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে কারাগারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও কপি পাঠানো হয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মীর কাসেম আলী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে প্রভাবিত করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিলেন এবং ওই লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলও চালু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশের সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর প্রধান দায়িত্ব ছিল ওই লবিস্ট ফার্ম ও টিভি চ্যানেলটির। লবিস্ট ফার্ম ও টিভি চ্যানেল তার কোনো কাজেই আসেনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে কোনোভাবেই আর রেহাই পাচ্ছেন না মীর কাসেম আলী।

    যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল তার শুনানিতে বলেছেন, মীর কাসেম আলী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করতে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে প্রভাবিত করতে ওই লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছেন মীর কাসেম আলী। যদিও আসামিপক্ষ বলেছে, এ অভিযোগের ভিত্তি নেই। তবে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে কি হয়নি সেটা বিচার্য বিষয়।

    অ্যাটর্নি জেনারেল লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন ডলার দেয়ার বিষয়ে একটি রশিদ দাখিল করেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আসামি খুবই অর্থশালী ব্যক্তি।

    রায়ে আরও বলা হয়, ২০১২ সালের ১৯ জুন ট্রাইব্যুনালে আসামির দাখিল করা জামিন আবেদনেও এর প্রমাণ মেলে। জামিন আবেদনে বলা হয়, তিনি (মীর কাসেম) একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি কেয়ারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, দিগন্ত করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালক, ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও প্রশাসন বিভাগের সদস্য, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, ফুয়াদ আল-খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব, সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (এসআইডি) সদস্যসচিব, অ্যাসোসিয়েশন অব মাল্টিপারপাস ওয়েলফেয়ার এজেন্সির চেয়ারম্যান এবং ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট ও বিজনেসম্যান ওয়লফেয়ার ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান। এসব কিছু প্রমাণ করে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করতে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করার সামর্থ্য রাখেন।

    রায় প্রকাশ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, টাকা থাকলেই যে আইনের হাত থেকে বা বিচারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না, মীর কাসেম আলীর বিচারের মধ্য দিয়ে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। আইনের শাসন বা বিচার বিভাগের রায়টাই প্রধান।

    তিনি আরো বলেন, ‘একটা লোক যতভাবেই বানচাল করার চেষ্টা করুক, আমরা আদালতের মর্যাদা যদি ঠিকমতো রাখতে পারি তাহলে সব বিচারই হবে।’

    উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর খালাস চেয়ে মীর কাসেম আলী আপিল করেন। এর আগে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের ১৪টি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হন মীর কাসেম। বিচারে তার বিরুদ্ধে দশটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

    ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত দশটি অভিযোগের মধ্যে আপিল বিভাগ সাতটিতে সাজা বহাল রাখেন এবং তিনটি থেকে খালাস দেন। আপিল বিভাগের দেয়া সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, ‘মীর কাসেম আলীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। তাকে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হল। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আপিল খারিজ করা হল। এসব অভিযোগে দেয়া সাজা বহাল রাখা হল।

    ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৭২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা জসিম হত্যার অভিযোগে (১১ নম্বর) মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।

    ওই অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে ঈদুল ফিতরের দিন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। সেখানে আরো পাঁচজনকে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধা জসিমের লাশের সঙ্গে তাদের লাশও কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয় আলবদর বাহিনী।

    (Visited 3 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *