Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়ে ঠাঁই হয়েছে সরকারি এতিমখানা: পহেলা বৈশাখে এতিমের আবার চুরি-ফিতা লাগে?

ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়ে ঠাঁই হয়েছে সরকারি এতিমখানা: পহেলা বৈশাখে এতিমের আবার চুরি-ফিতা লাগে?

  • ১৩-০৪-২০১৬
  • bdrrছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়ে ঠাঁই হয়েছে সরকারি শিশু পরিবারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলছে পাশ্ববর্তী স্কুলে পড়াশোনা। সেখান থেকে মেলে উপবৃত্তিও। সামনেই বাংলা নববর্ষ। এবার পহেলা বৈশাখে একটু সাঁজগোজ করবে বলে চুরি-লাল ফিতা, লিপিস্টিক কিনেছিল গাইবান্ধা শিশু পরিবারের মেয়েরা। কিন্তু এই এতিমদের আবার এত বিলাসিতা কিসের? পহেলা বৈশাখে আবার তাদের সাঁজগোজও লাগে!

    কেড়ে নেয়া হয়েছে ‘বিলাসবহুল’ এই প্রসাধনীগুলো! এমনই অভিযোগ তুলেছেন গাইবান্ধা সরকারি শিশু পরিবারের শতাধিক মেয়ে।

    তারা জানান, গত শনিবার (৯ এপ্রিল) গাইবান্ধা স্বাধীনতা রজতজয়ন্তী বালিকা বিদ্যালয়ে এই এতিমখানার প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে। এই টাকা নিয়ে বাংলা নববর্ষে নিজের জন্য প্রসাধনী কিনে আনে। তারা এসব না জানিয়ে কেন কিনলো? এই অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক এবং উপতত্ত্বাবধায়ক তাদের কাছ থেকে কেনা প্রসাধনীসহ উপবৃত্তির টাকাও কেড়ে নিয়েছেন।

    অভিযোগ তদন্ত করতে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত উপসহকারী তত্ত্বাবধায়ক জিন্নাতুননেছাকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেয়া হয়েছে।

    এই প্রথম নয়, এর আগেও এই এতিমখানার এক শিশুর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তত্বাবধায়ক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। তিনিসহ সহকারী উপ-তত্বাবধায়ক জিন্নাতুন নেছা ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরূপ আচরণে অতিষ্ঠ শিশুরা।

    এ ঘটনায় সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে, নানান অভিযোগ তোলেন শিশুরা। নাসরিন নামের এক শিশু বলেন, ‘জিন্নাতুন ম্যাডাম সব সময় আমাদের দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করে নিতেন। তার কথা মতো কাজ না করলে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। সে জন্য এসব কথা কাউকে বলতে পারিনি।’

    অফিসের টানানো কাগজ ও অফিসের ফাইলে নানা নিয়ম কানুন থাকলেও অনিয়মের স্বর্গরাজ্য এই শিশু পরিবার। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশু পরিবারে বছরে দুইটি করে জামা-পায়জামার দেয়ার কথা। সাবান, তেলসহ পড়ালেখার জন্য নিয়মিত বই, খাতা কলম, জুতা, মোজাও দেয়ার কথা। খাবার দেয়ার কথা নিয়মিত তিন বেলা। তারওপর বছরের বিশেষ উৎসবে থাকার কথা বিশেষ খাবার। কিন্তু জামা কাপড় দেয়া হয় কর্তৃপক্ষের মর্জি মাফিক খাবার জোটে। বছরে জামা কাপড় জুটলেও তিন বেলা ভাত তরকারি জোটে যেনতেন ভাবেই। সকালে স্কুলে গিয়ে বিকেলে ফিরে খেতে হয় খাবার অযোগ্য তরকারি আর ভাত। দুধ দেয়া হয় পানি মিশিয়ে। প্রত্যেক শিশুকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে ১০ টাকা ফোন বিল দিতে হয়।

    এই শিশু পরিবারের বেশ পুরনো বাসিন্দা একজন জানালো, দুধ আসার সাথেই জিন্নাতুন ম্যাডামের বাড়িতে চলে যায়। তারপর হিসাব করে যা থাকে তা আসে এতিমদের জন্য। দুধের নামে এতিমরা খায় সাদা পানি। সপ্তাহে ৫০ গ্রাম তেল দেয়া হয় মাথার চুলের জন্য। কিন্তু তা নারিকেল তেলের বদলে আসে সোয়াবিন আকৃতির এক প্রকার তেল। খাসির মাংসের বদলে দেয়া হয় ভ্যারার মাংস। ডিমটাও দেয়া হয় ভাগ করে, আর মাছতো থাকে নামে মাত্র। পচা সবজিতো আছেই। আর এসবের দায়ীত্বে থাকেন কম্পাউন্ডার জিন্নাতুন নেছা।

    মেয়েদের সাথে থাকার জন্য খালাম্মা পদবীর একজন থাকার কথা। কিন্তু খালাম্মা নেই। যিনি রান্না করেন তিনিই রাতে থাকেন মেয়েদের সাথে।

    তাদের অভিযোগ, জুতা না থাকলে দেয়া হয় না। এই জুতার কারণেই অনেকের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ফাতিমা নামের একজন এসব অভিযোগ করতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেন। বলেন, ‘বছরের তিন মাস চলে গেছে কিন্তু আমাদের একটা কলমও দেয়া হয়নি। বই দিলেও তা ভাগ করে পড়তে হয়। খাতা দেয়ার কথা ৫০টি। কিন্তু দেয়া হয়েছে ২৫টি। কিন্তু সরকারি খাতায় ঠিকই লেখা হয়েছে ৫০টি।’

    এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে শিশু পরিবারের সরকারি ওষুধ নিয়েও। এসব ওষুধ নাকি বিক্রি হয় বাইরেও। এতিমদের দেয়া হয় না। শিশুরা অসুস্থ হলে কম্পাউন্ডার জিন্নাতুন নেছা তাদের ওষুধ না দিয়ে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন।

    বলেন তোরাতো এতিম-তোদের পড়ালেখা করে কি হবে । তোদের তো বিয়ে হবে রিক্সা চালকের সাথে । রোদ বৃষ্টি ঝড়ে তাদের দিয়ে কাজ করানো হয় কর্তাদের বাড়ি ও শিশু পরিবারের অফিস এবং চত্তরে ।

    বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা ঘটনার অনেকটা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ ওঠার অভিযুক্ত উপসহকারী তত্ত্বাবধায়ক জিন্নাতুনেছাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    এব্যাপারে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘এধরনের অভিযোগ গুরুতর। প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *