Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / ঘুরে আসুন ফেনীর দর্শনীয় স্থান গুলোতে

ঘুরে আসুন ফেনীর দর্শনীয় স্থান গুলোতে

  • ১৮-১১-২০১৬
  • images-5কাজী ইফতেখারুল আলম:  ভালোবাসা কাকে বলে? এর সূর কী? এই নিয়ে সেই আদমের আমল থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই নিয়ে যুগের পর যুগ গবেষণা হয়েছে। কারো কারো মতে প্রেম নিষিদ্ধ ফলের মতো। পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই। আবার কারো মতে প্রেম না থাকলে পৃথিবী অনেক আগে শেষ হয়ে যেতো। প্রেমের আকর্ষণ দুর্নিবার, মানবসত্তার গহনে তার বাস। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম এ বন্ধনের নিবিড়তা অনুভর করে। কারো মতে ভালোবাসা প্রকাশের মূল সুর শরীর। সেটা হতে পারে মুখে বলা, হাতে হাত ধরা কিংবা চোখে চোখে তাকিয়ে থাকা। হ্যাঁ ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবার ফেনীতেও থাকছে নানান আয়োজন। প্রিয়জন কিংবা পরিবারের সদস্য নিয়ে ঘুরে আসনু ফেনীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।14218092_1188243064551941_1344411963_nবিজয় সিংহ দীঘি:
    বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি এ বিজয় সিংহ দিঘি। এ দিঘি ফেনী শহরের প্রায় ২ কি.মি. পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত। এ দিঘির আয়তন ৩৭.৫৭ একর। অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ দিঘির চৌপাড় খুব উঁচু ও গাছপালা শোভিত। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আপন ইভেন্টসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দিঘির পাড়ে থাকবে নানান আয়োজন। আপন ইভেন্টসের চিফ ইভেন্ট কনসালটেন্ট শরীফুল ইসলাম অপু জানান, উপস্থিত গল্প বলা, ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ, গেইম শো, র্যা ফেল ড্র, ঘুরতে আসা সবাইকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা, মেহেদী উৎসব, সেলফি কনটেস্টসহ ব্যতিক্রমী আয়োজন।১৯৯৫ সালে ফেনীর প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব এএইচএম নূরুল ইসলাম প্রচুর গাছের চারা রোপণ করে বর্তমান এ পরিবেশের সৃষ্টি করেন। ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দিঘির মধ্যে বিজয় সিংহ দিঘি অন্যতম। এ দিঘি দেখার জন্য জেলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা আসে। প্রবেশের জন্য টাকা গুণতে হয় না। ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট কিংবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজিতে যাওয়া যায়।14172082_1188241907885390_1699286263_nরাজাঝির দীঘি ও শিশু পার্ক:
    ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দিঘির অবস্থান। মোট ১০.৩২ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দিঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। জনশ্রুতি আছে ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে প্রায় ৫/৭ শ বছর আগে এ দিঘি খনন করা হয় বলে। স্থানীয় ভাষায় কন্যাকে ঝি বলা হয়। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দিঘির পাড়ে। দিঘির পাড়ে বর্তমানে জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্ক গড়ে উঠেছে। শিশু পার্কে বসলে দিঘির দক্ষিণা বাতাসে মন-প্রাণ উতালা হয়ে উঠে। অত্যন্ত ছোট পরিসরে হলেও শিশুদের নানা ধরনের নাগর দোলাসহ প্রেমিক যুগলদের নিরিবিলি সময় কাটানো মতো রয়েছে বৈঠকখানা।

    তৃপ্তি অ্যাগ্রো পার্ক:
    ফেনী শহরের অদূরে নতুন রানীর হাট ফুলে ফুলে সাজানো গোছানো পরিবেশ, পাখির কলরব, প্রজাপতির লুকোচুরি খেলা, নির্মল মৃদু বাতাস, সীমাহীন মুক্ত আকাশ, প্রসস্থ দিঘি ও লেক সমৃদ্ধ নিরিবিলি প্রকৃতিক পরিবেশ তৃপ্তি অ্যাগ্রো পার্ক। পার্কে ফাস্ট ফুড চটপটি কাবাব, গিফট শপ, নাগরদোলা, নৌকা ভ্রমণ, শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা আয়োজন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে নিবিড় সবুজের সমারোহ প্রকৃতিক অপরূপ সান্নিধ্যে উপভোগ করুন এক নতুন দিন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর পার্ক তৃপ্তি অ্যাগ্রো পার্ক।

    14171926_1188241801218734_785884118_nনিহালপল্লীঃ
    ফেনীর বিনোদন পার্ক জগতের আরেক নাম নিহালপল্লি। সব পেশার লোকদের বিনোদনের জন্য অন্যতম বেসরকারি বিনোদন পার্ক কসকার এই নিহালপল্লী লোক সমাগমে জমে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কসকা বাজার সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে গড়ে উঠা বেসরকারিভাবে বিনোদন পার্ক হিসেবে এ নিহালপল্লি ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। নিহালপল্লির দক্ষিণা বাতাসে অনেকে আনমনা হয়ে যান। প্রবেশ পথে সবুজ ঘাসের ওপর আকর্ষণীয় নিখুঁত শিল্পীর প্রচ্ছদে স্থাপিত বাংলাদেশের মানচিত্র, হাতের ডান পাশেই সবুজ গাছ-গাছালির মাঝে দেখা যাবে বিশালাকৃতির একটি বাঘ। যার থাবায় আটকে আছে মায়াবি হরিণ। চোখ ঘুরালেই ঘাস ও পানির মাঝে মাছ শিকারের অপেক্ষায় ধ্যান করে বসে আছে সাদা বক। মন চাইবে ফাঁদ বসিয়ে এ বক ধরতে । ফলজ, বন ও ঔষধি গাছের উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য থরে থরে সাজানো শতাধিক প্রজাতির গাছের সারি দেখতে চোখ যেন সবুজে ঝলমল করে উঠতে চাইবে আপন মনে।

    14182297_1188242057885375_1717755974_nমুহুৱী প্ৰজেক্ট বা মুহুরী সেচ প্রকল্পঃ
    ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পের নির্মান কাজ শেষ হয়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়ি বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ৪০ ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরী করে ফেনী জেলার ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার কিয়দংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল মুহুরী সেচ প্রকল্প।সিডা, ইইসি , বিশ্বব্যাংক অর্থ সহায়তায় জাপানের সিমুজু কোম্পানী ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে। এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর এলাকায় সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর এলাকা সম্পুরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে গত আড়াই দশকে গড়ে ওঠে বিনোদন ও পিকনিক স্পট।শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসু লোক এবং পর্যটক বেড়াতে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মুহুরী রেগুলেটরের চারদিকে বাঁধ দিয়ে ঘেরা কৃত্রিম জলরাশি, বনায়ন, মাছের অভয়ারণ্য, পাখির কলকাকলি, বাঁধের দুপাশে নীচে খেকে পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং উপরদিকে দুর্বা ঘাসের পরিপাটি বিছানা। মুহুরী জলরাশিতে নৌভ্রমণের সময় খুব কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এবং প্রায় ৫০জাতের হাজার হাজার পাখির দেখা পাওয়া যায়।

    14182095_1188241451218769_1603968944_nশিলুয়ার শীলপাথরঃ
    ফেনীর পূর্বভাগে ছাগলনাইয়া উপজেলায় শিলুয়া গ্রামে এক প্রাচীণ ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ শিলামুর্তির গায়ে খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দে প্রচলিত ব্রাক্ষ্মী হরফের লিপি থেকে এখানে আর্য্য সভ্যতা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যায় ব্রিটিশ আমল থেকে প্রাচীণ ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নটি প্রত্নতাত্বিক সংরক্ষণ আইণ অনুযায়ী সংরক্ষিত হয়েছে।

    রাজাঝীর দীঘিঃ
    ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দিঘীর অবস্থান জনশ্রুতি আছে এটি পুরা মহারাজের প্রভারশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে প্রায় ৫/৭ শত বছর পূর্বে এ দীঘি খনন করা হয় বলে স্থানীয় ভাষায় কন্যা-কে ঝি বলা হয় ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমার প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, অফিসার্স ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্ক সহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে মোট ১০.৩২ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দীঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি।

    জগন্নাথকালী মন্দিরঃ
    ছাগলনাইয়া অবস্থিত। বাল্যকালে লালন কর্তা জগন্নাথ সেনের স্মৃতিতে এ মন্দিরও কালী মূর্তি নির্মাণ করেন।

    চাঁদগাজী মসজিদঃ
    মোগল আমলের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন চাঁদগাজী ভূঞা। তার নামানুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের অদূরে চাঁদগাজী বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদগাজী বাজারের কাছে মাটিয়া গোধা গ্রামে অতীত ইতিহাসের সাক্ষী হিসাব অবস্থান করছে চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদ। মধ্যযুগের রীতি অনুযায়ী চুন, সুডকী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইট দ্বারা তৈরী এ মসজিদের দেয়ালগুলো বেশ চওড়া । মসজিদের ছাদের উপর তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ। মসজিদের সামনে একটি কালো পাথরের নামফলকে এ মসজিদের নির্মানকাল ১১১২ হিজরী সনউল্লিখিত আছে।

    শমসেরগাজীর দীঘিঃ
    শমসের গাজী তার মাতা কৈয়ারা বেগমের নামে এ দীঘি খনন করেন। এ দীঘি ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের নিকটবর্তী সোনাপুর গ্রামে অবস্থিত। ৪.৩৬ একর আয়তনের এ দীঘি ১/৩ভাগ ভারতীয় অংশে পড়েছে।

    ফেনী বদ্ধভূমি:
    ফেনীতে রয়েছে বেশ কিছু বদ্ধভূমি। তবে একমাত্ৰ সংরক্ষিত বদ্ধভূমিটি রয়েছে ফেনী সরকারি কলেজের অডিটোরিয়াম সংলগ্ন।সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক পাগলা মিয়ার মাজার:
    দরবেশ পাগলা মিয়ার নাম ছিল সৈয়দ আমির আলী (র)। ১৮২৩ সালে ফাজিল পু ছনুয়া তার জন্ম হয়। এবং ১৮৮৭ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে মৃতু্ু্য বরন করেন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার (তাঁর জন্মদিন) তার মাজারে ওরশ হয়।
    সেখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক সমবেত হয়।
    তিনি আধুনিক ফেনী জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর রেখে গেছেন অপরিসীম প্রভাব। তার আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পর্কে ফেনী অন্জ্ঞলে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।
    এখন প্রতিদিন তার মাজারে মানুষ দলে দলে ফাতেহা পাঠ করে,জেয়ারত করে এবং মানত করে।

    14172078_1188242861218628_33100763_nভাষা শহীদ সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর:
    ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদ সালামের গ্রামের বাড়ী ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার মাতুভূঁঞা ইউনিয়নের প্রাক্তন লক্ষনপুর বর্তমানে সালাম নগরে তার পৈতিক বাড়ীর অদুরে এডিপির অর্থায়নে এলজিডি’র অধীনে ফেনী জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১২ শতক জমির উপর প্রায় ৬৩ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা ব্যায় এ জাদুঘরটি নির্মান করা হয়। ২০০৮ সালের ২৬ মে স্মৃতি জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ।

    এছাড়া রয়েছে,ফেনীর ধর্মপুরে চৌধুরী বাগান বাড়ী।
    মহিপাল সার্কিট হাউজ রোড়স্থ গোল্ডেন পার্ক।
    লেখক-কাজী ইফতেখারুল আলম
    (Visited 277 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *