Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / খেলাপি ঋণঃ তিন মাসের ব্যবধানেই বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৭০ হাজার কোটি টাকা – Songbad Protidin BD

খেলাপি ঋণঃ তিন মাসের ব্যবধানেই বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৭০ হাজার কোটি টাকা – Songbad Protidin BD

  • ০৬-০৬-২০১৭
  • 5981ea51fa36479a5ee9b4db1cd0cb89-59247ebeb9cc2সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ খেলাপি ঋণকে ব্যাংকিং খাতের রক্তক্ষরণ বলা হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে চার হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। সে হিসেবে এসব ব্যাংকে ঋণ বৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া মোট খেলাপি ঋণের ৫১ শতাংশই এখন এ ছয়টি ব্যাংকের। অথচ এ সময় ব্যাপক হারে ঋণ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে খেলাপির হার কমার কথা কিন্তু বলা হয়নি। আইএমএফের ইসিএফ লোনের অন্যতম শর্ত হলো ব্যাংক খাতে সুশাসন। তারপরও খেলাপি ঋণের হার লাগামহীন হয়ে পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। তিন মাসে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকেরই ৫১ শতাংশ।

    রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএর এই ছয় ব্যাংকে ডিসেম্বর থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৩৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে যা ছিল ৩১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে এই খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে চার হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মার্চে খেলাপি হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এই দুটি ব্যাংক ৬ মাস পরপর খেলাপি ঋণের তথ্য হালনাগাদ করে বলে মার্চের তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি বাড়ার কারণ সম্পর্কে সরকারি এক ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, মামলা থাকলেও ঋণের প্রকৃত মান দেখাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য খেলাপি অনেক বেশি বেড়েছে।

    তবে শুধু সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে নয় খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে গোটা ব্যাংকিংখাতেই। তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংক খাত থেকে মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। সেগুলো হিসাবে আনলে খেলাপি ঋণ দাঁড়াবে এক লাখ কোটি টাকার উপরে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ৭৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। ওই সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বেড়েছিল ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে যে পরিমাণ খেলাপি বেড়েছে, এবার তিন মাসেই সে তুলনায় বেশি বেড়েছে।

    এছাড়া গত বছরে মার্চে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা।

    ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ সুবিধা দিয়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে পুনর্গঠন করেছে। পর্যাপ্ত অর্থ জমা ছাড়াই ঋণ পুনঃতফসিল করে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। আদায়ের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ঋণ নতুন করে খেলাপি হয়েছে, আগে নবায়ন করা ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় সেটি আবার খেলাপির তালিকায় চলে এসেছে। এছাড়া কোন শর্তের বেড়াজালে পড়ে যাতে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ গোপন না করে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব কারণে গত তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে এই ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 17 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *