Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / লাইফস্টাইল / কেন কোয়েল পাখির ডিম খাওয়া দরকার – Songbad Protidin BD

কেন কোয়েল পাখির ডিম খাওয়া দরকার – Songbad Protidin BD

  • ০৪-০৫-২০১৭
  • 7301_41982220170502102657লাইফস্টাইল ডেস্ক>  পৃথিবীতে যত প্রকার খাদ্য উপযোগী ডিম আছে তার মধ্যে কোয়েল পাখির ডিম গুনে মানে এং পুষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ট। আমাদের সমাজে ফার্মের মুরগির ডিম বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যার মধ্যে প্রাণের কোনো স্পন্দন নেই। কারণ এইগুলি মোরগ ছাড়া ডিম। এর বাচ্চা হয় না। অপর পক্ষে কোয়েলের ডিম বাচ্চা উৎপাদন করতে সক্ষম। তাছাড়া পুষ্টিগুণ ও অন্যান্য ডিম থেকে অনেক অনেক ভালো।

    ৪০ বছর পার হলেই ডাক্তারের নির্দেশ থাকে মুরগির ডিম খাওয়ার ব্যাপারে সর্তক থাকুন। কারণ নিয়মিত মুরগির ডিম খেলে কলোস্ট্ররেল বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বয়স্ক লোকদের এই অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্য ডিম খাওয়া থেকে বাধ্য হয়ে বিরত থাকতে হয়। অথচ কোয়েলের ডিম নির্দ্বিধায় যেকোনো বয়সের মানুষ অর্থাৎ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধরা খেতে পারে। এতে ক্ষতির কোনো কারণ নেই বরং নিয়মিত কোয়েলের ডিম গ্রহণ করলে অনেক কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হতে পারে।

    বিভিন্ন দেশে কোয়েল পাখির ডিম নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং সব জায়গা থেকে গবেষকরা কোয়েলের ডিম খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

    একজন চিকিৎসক জিন ক্লড ট্রুফিয়ার বিভিন্ন রোগীর ওপর কোয়েল পাখির ডিম থেরাপি হিসাবে ব্যবহার করে দারুণ ফল পেয়েছেন। এটা নিশ্চিত যে, কোয়েল ডিম খাদ্য হলেও শরীরে ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

    বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা বিশেজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, কোয়েলের ডিম ওষুধ হিসেবে খেয়ে বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন- হার্টের রোগ, নানা ধরনের কিডনি রোগ, অতিরিক্ত ওজন, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ, পাকস্থলীর নানা রকম রোগ, ফুসফুসের নানা রকম রোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, পুরুষত্বহীনতা এবং উচ্চ কলোস্ট্ররেল ইত্যাদি কোনো রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া নিরাময় হয়।

    কেন কোয়েল পাখির ডিম খাবেন?

    ★ এই ডিমের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম এবং এমাইনো এসিড এমনভাবে বিন্যাসিত যে, এই ডিম শরীরের সব ধরনের পুষ্টির অভাব পূরণ করে শরীরের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।
    ★ মুরগির ডিমের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় কোয়েল ডিমে কোলেস্টেরল ১.৪% আর মুরগির ডিমে ৪% এবং প্রোটিনের পরিমাণ মুরগির ডিম থেকে প্রায় শতকরা ৭ ভাগ বেশি।
    ★ কোয়েল ডিমে ভিটামিন বি-১ এর পরিমাণ মুরগির ডিম থেকে ছয়গুণ বেশি,
    আয়রন ও ফসফরাস পাঁচগুণ বেশি, ভিটামিন বি-২ পনেরো গুণ বেশি।
    ★ কোয়েলের ডিমে এমন কিছু উপাদান আছে যা শরীরের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
    ★ হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
    ★ কিডনি এবং লিভারের কর্মদক্ষতা দুর্বল থাকলে সবল করে।
    ★ হজম শক্তি বাড়ায় এবং এসিডিটি কমায়।
    ★ মস্তিষ্ক সতেজ রাখে এবং স্মৃতিশক্তি সবল রাখে।
    ★কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
    ★ বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়।
    ★ দুর্বল বাচ্চা এবং বৃদ্ধরা প্রতিদিন ২/৩টি কোয়েল পাখির ডিম গ্রহণ করলে ৩/৪ মাসের মধ্যে সবল হয়।

    কেন কোয়েল পাখির ডিম এত সমাদৃত?

    কোয়েল ডিম প্রাণিজ খাদ্যদ্রব্য হলেও এর মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম এবং এমাইনো অ্যাসিড এমনভাবে বিন্যাসিত যে, এই ডিম খেলে শরীরে সব ধরনের পুষ্টির অভাব পূরণ করে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

    ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমান তুলনা করলে আরও অবাক করা তথ্য বেরিয়ে আসবে।
    কোয়েল ডিমে ভিটামিন বি-১ এর পরিমাণ মুরগির ডিম থেকে ছয়গুণ বেশি। ফসফরাস পাঁচগুণ, আয়রন পাঁচগুণ, ভিটামিন বি-২ পনেরো গুণ বেশি।

    এছাড়া শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনেন ভিটামিন, মিনারেল, এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড কোয়েলের ডিমে বিদ্যমান। যার কারণে কোয়েল ডিম ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা নিয়ে গবেষকদের কোনো মতপার্থক্য নেই।
    সকালের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ৪/৫টা কোয়েল ডিম থাকলে দেহ যন্ত্রাদির কার্যক্রম যেভাবে উন্নত করে । হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা উন্নত করবে।

    কোয়েল ডিম দিয়ে চিকিৎসা!

    যেকোনো গুরুতর জটিল রোগের সুস্থতা শুধু কোয়েল ডিম ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করে তার সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।

    কোয়েল ডিম ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করার নিয়ম:

    রোগের তীব্রতা, সময়কাল, বিপদজনক এবং গুরুতর অবস্থার ওপর ভিক্তি করে রোগ নিরাময়ের সময়কাল এবং দৈনিক ডিম গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। যেমন-৬০, ৯০, ১২০ এবং ২৪০টা ডিম কত দিনের মধ্যে খেতে হবে।

    ১ বছর থেকে ৭ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের ৬০টা ডিম নির্ধারণ করে ৩০ অথবা ২০ দিনের জন্য। অর্থাৎ প্রতিদিন ২টা বা ৩টা করে খেতে দিতে হবে।

    ৮ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের ৯০টা ডিম ৩০ দিনে খেতে হবে অর্থাৎ প্রতিদিন তিনটা করে।

    ১১-১৫ বছর বাচ্চাদের ৯০টা ডিম ৩০ দিনে অর্থাৎ প্রতিদিন ৩টা করে খেতে হবে।

    ১৬-১৮ বছর বয়সীদের জন্য ১২০টা ডিম ২৬ দিনে খেতে হবে। প্রথম দিন– ৩টা, দ্বিতীয় দিন–৩টা, তৃতীয় দিন– ৪টা, পরের দিনগুলোতে ৫টা করে ডিম খেতে হবে।

    বয়স্কদের জন্য ২৪০টা ডিম ৪৯ দিনে নিচের নিয়ম অনুসারে খেতে হবে।

    প্রথম ৩ দিন–৩টা করে ডিম খেতে হবে। ৪র্থ দিন– ৪টা পরের দিনগুলোতে–প্রতিদিন ৫টা করে ডিম খেতে হবে।

    ডিমগুলো প্রতিদিন খালিপেটে কাঁচা খেতে হবে। ডিমগুলিকে প্রথমে গরম পানিতে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর কাঁচা ডিমে সামান্য মধু এবং কয়েক ফোটা লেবু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

    বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ডিমের সংখ্যা:

    বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কার্যক্রম এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য-১২০টি ডিম প্রয়োজন।
    বয়স্ক লোকদের শরীরের ধীর অধোগতি, বিভিন্ন তন্ত্রের ভারসাম্যতা এবং সুস্থ থাকতে-২৪০টি ডিমের প্রয়োজন।

    চামড়ায় নানা ধরনের র‌্যাসের জন্য–১২০টি
    লিভারের কার্যক্রম সবল করতে–২৪০টি
    মুত্রাশয় জনিত সর্ব প্রকার রোগের জন্য–২৪০টি
    দুর্বল হজম শক্তির জন্য–১২০টি
    বাত এবং বাতজ্বরের জন্য–২৪০টি
    অতিরিক্ত ওজন কমাতে –২৪০টি
    হৃদরোগের জন্য–২৪০টি
    এইডস এর জন্য–২৪০টি
    অ্যাজমা–২৪০টি
    এক্জিম্যা–২৪০টি
    এলার্জি– ২৪০টি
    আলসার– ২৪০ টি
    অ্যাসিডিটি– ১২০টি
    রক্তশূন্যতা– ২৪০টি
    ডায়াবেটিস– ২৪০টি

    লেখক: শহীদ আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান, সুচিকিৎসা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন, ঢাকা।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি।  ডেস্ক 

    (Visited 96 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *