Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / জাতীয় / কার্গো পরিবহন: ইইউর শর্তে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা – Songbad Protidin BD

কার্গো পরিবহন: ইইউর শর্তে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা – Songbad Protidin BD

  • ০৮-০৬-২০১৭
  • image-37713সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে ‘হাইরিস্ক’ কান্ট্রি হিসেবে ঘোষণা করে আকাশ পথে কার্গো পণ্য পরিবহনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) যে শর্ত আরোপ করেছে তাতে টেনশনে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। কারণ ইতিমধ্যে এই ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পরিবহন ইতিমধ্যেই কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাত।

    এই পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ কর্মকর্তারা বুধবার ঢাকায় এক বৈঠকে মিলিত হন। দুপুরে কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে এ বৈঠক হয়। মূলত, তারা বলেন, এমনটা হলে গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে পাঠাতে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে।

    গত ১ জুন থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে কার্গোতে পণ্য পাঠাতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেমের (এলইডিএস) আওতায় স্ক্যানিং করার পরামর্শ দেয়া হয়। এর পর থেকেই শাহজালালে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহন কমে আসে। কারণ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম নেই। কার্গো এয়ারলাইন্সগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে বিমানবন্দর সূত্র মতে, ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে টার্কিশ এয়ার এক লাখ ২৫ হাজার ৫৭৭ কেজি, ইতিহাদ তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬১০ কেজি, কাতার এয়ারওয়েজ পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ কেজি, ক্যাথে প্যাসেফিক ৮৫৪ কেজি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এক লাখ ১৪ হাজার ৩২৫ কেজি, এমিরেটস তিন লাখ ৬০ হাজার ০৭৯ কেজি ড্রাগন এয়ার চার হাজার ৪০৯ কেজি পণ্য কার্গোতে পরিবহন করছে।

    ইইউ এর বিধিনিষেধ আরোপের পর ১ থেকে ৬ জুন ক্যাথে প্যাসেফিক, ড্রাগন এয়ার কার্গোতে কোনও পণ্য পরিবহন করেনি। অন্যদিকে, পণ্য পরিবহন বেড়ে গেছে টার্কিশ, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম থাকায় টার্কিশ এয়ার ৪২ হাজার ১৭৫ কেজি, ইতিহাদ ৬৪ হাজার ৯৩৪ কেজি, কাতার এয়ারওয়েজ পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৬ কেজি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স চার লাখ ২৫ হাজার ৪৮১ কেজি, এমিরেটস এক লাখ ৪৪ হাজার ৫১৮ কেজি পণ্য কার্গোতে পরিবহন করছে।

    জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পরামর্শমতো যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ইইউ’র উচ্চপর্যায়ের টিম বাংলাদেশ সফরে এসে সরাসরি কার্গো রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউ’র টিম বাংলাদেশকে সরাসরি কার্গো রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

    এফবিসিসিআইর সাবেক এক সহ-সভাপতি বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির পর এবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি কার্গো নেয়া সীমিত করে দেয়ায় চরম বিপাকে পড়বে তৈরি পোশাক খাত। আকাশপথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও নমুনা পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প পথে অন্য দেশের আশ্রয় নিতে হবে। তবে তিনি বলেন, ইইউ তৃতীয় দেশে রি-স্ক্যানিং করে পণ্য নেয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে কুয়েত, সোমালিয়া, মিশর ও ইয়েমেনকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইইউ। এ কারণে উড়োজাহাজে করে কার্গো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি বাড়ানোর অনুরোধ করেছে ইইউ। বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র যুক্ত করার তাগিদও দিয়েছে তারা। ইইউ এটাও বলেছে, ঢাকায় ওই তল্লাশি সম্ভব না হলে ট্রানজিট পয়েন্টে অর্থাৎ দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল ইত্যাদি কোন স্থানে পণ্য স্ক্যান করতে হবে। ওই পণ্যে কোন বিস্ফোরক আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ইইউ’র বাজারে তা প্রবেশ করবে। বাংলাদেশকে ইইউ’র নীতিমালা মেনেই পণ্য পাঠাতে হবে বলেও সতর্ক করেছে ইইউ।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ আলামিন আলন 

    (Visited 10 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *