Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সাক্ষাৎকার / এখনো অনেক কাজ করার বাকি আছে : মেয়র আনিসুল হক – Songbd Protidin BD

এখনো অনেক কাজ করার বাকি আছে : মেয়র আনিসুল হক – Songbd Protidin BD

  • ০৬-০৫-২০১৭
  • Anisulসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি না থাকার পরও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সব জায়গা থেকে অনিয়ম দূর করার চ্যালেঞ্জে লড়ে যাচ্ছেন মেয়র আনিসুল হক। সিটি করপোরেশনকেন্দ্রিক টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা এনে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। আর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ, গাবতলীতে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা এবং সর্বশেষ দূতাবাসপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

    আনিসুল হকের আরো কিছু সফল পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন; উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ; সড়কবাতি স্থাপন, সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ, সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসনে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।

    তবে নতুন করে যুক্ত হওয়া আটটি ইউনিয়নের ফলে বিদ্যমান ৩৬টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে তা হয়েছে ৫৪টি। আর পাঁচ জোনের স্থলে প্রস্তাবিত জোন হচ্ছে ১০টি। বর্তমান জনবল নিয়ে নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সেবার মান নিশ্চিত করা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেমন কেটেছে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর, তার খুঁটিনাটি নিয়ে কালের কণ্ঠ’র মুখোমুখি হয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির রাজপথে মানুষের দৃষ্টিসীমার পুরোটা জুড়ে ছিল নানা আকারের রংবেরঙের বিলবোর্ড। রাস্তার পাশে, ভবনের ছাদে কিংবা দেয়ালে হাজার হাজার বিলবোর্ড শহরের সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়েছিল। সেই চিরচেনা রূপ বদলে গেছে; গত দুই বছরে ২০ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। মানুষ আজ চোখ মেলে বিলবোর্ডের বদলে খোলা আকাশ দেখতে পায়। ’

    মেয়র বলেন, ‘গাবতলী আর আমিনবাজারের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে সেখানে ঘণ্টাখানেক যানজটে আটকে থাকাটা এখন কেবলই অতীত স্মৃতি। তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়েছে, সেখানে এখন সুপ্রশস্ত সুন্দর রাস্তা। বাগে মোনায়েম, ঢাকা ওয়েস্টিন বা ম্যারিয়ট হোটেল, রাশিয়া কিংবা ইতালি দূতাবাস কাউকে রাস্তা কিংবা ফুটপাত অবৈধ দখলে রাখতে দেওয়া হয়নি। জনগণের রাস্তা ও ফুটপাত জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ’

    সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘১৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা, ১২৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমাকে পাইপ নর্দমা এবং ৩২৫ কিলোমিটার ফুটপাতের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছি। উত্তরা এলাকার ১, ৩-১৪ নম্বর সেক্টরের রাস্তা, নর্দমা এবং ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প এবং ডিএনসিসির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭৬ কিলোমিটার রাস্তা, ২৪২ কিলোমিটার নর্দমা এবং ৬৯ কিলোমিটার সুপ্রশস্ত ফুটপাত উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ’

    তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে দুটি চলন্ত সিঁড়িসহ ৫৫টি ফুট ওভারব্রিজ, দুটি আন্ডারপাস এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। ১০টি উন্নতমানের আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। ’

    মেয়র বলেন, ‘‘উন্নত নাগরিকসেবার জন্য ‘নগর’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে; সেখানে ঘরে বসেই বিভিন্ন নাগরিকসেবা সম্পর্কিত তথ্য ও তাদের পরামর্শ এবং অভিযোগ সরাসরি মেয়রের কাছে আসে। ডিএনসিসির সব ক্রয়প্রক্রিয়া শতভাগ ই-জিপির আওতায় এনে অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জনসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ”

    তিনি বলেন, “নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে ব্যবসায়ী মহল, ল অ্যান্ড অর্ডার কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এলওসিসি) ও ডিএমপির সহায়তায় গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতনসহ কূটনৈতিক এলাকায় এরই মধ্যে ৬৪২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একই উদ্দেশ্যে এ এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ বাস সার্ভিস ‘ঢাকা চাকা’ চালু করা হয়েছে। ”

    বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করার সময়ে ডিএনসিসি অনেক গাছ কেটে ফেলেছে, এটি কিভাবে দেখছেন এ প্রশ্নে মেয়র বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে গাছ কেটেছি তা ঠিক না। তিনটি পর্যায়ে আমাদের গাছ না কেটে উপায় থাকে না। যখন গাছটি ড্রেনের মধ্যে পড়ে, রাস্তার স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেয় কিংবা যখন সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ’ তবে তিনি জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তরা এলাকায় ৩২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ বছর ১০ লাখ গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফলতা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে ৫৬টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৪০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরো ১০টি এসটিএস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে; যার ফলে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় আর বর্জ্য দেখা যাবে না। আমিনবাজার এলাকায় ল্যান্ডফিল সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ল্যান্ডফিল ব্যবহারকারী যানবাহনে ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের মাধ্যমে এগুলোর গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি; যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটা স্থায়ী ও টেকসই সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। ’

    উন্নয়নমূলক কাজ তুলনামূলক অভিজাত এলাকায় বেশি হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসিসির মেয়র বলেন, ‘আমরা সব এলাকায় ধাপে ধাপে কাজ করছি। কোথাও একটু কম; আবার কোথাও একটু বেশি। যেসব প্রকল্প হাতে আছে তা বাস্তবায়িত হলে এমনটি আর মনে হবে না। তা ছাড়া আমি তো সব এলাকারই মেয়র। সবাই আমার কাছে সমান। ’

    মেয়র হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে কী কী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, এ প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘প্রথম প্রথম সিটি করপোরেশনের কাজের ধারা বুঝতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন আমাদের কাজের ধারা একটা গতি পেয়েছে, আপনারা তা দেখতে পাচ্ছেন। কিছু মৌলিক বিষয়ে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটা মেসেজ দিতে সক্ষম হয়েছে; যার ফলে ওই সব বিষয়ে কাজ করতে এখন আর তেমন বেগ পেতে হয় না। সমন্বয়ের একটা বিষয় তো আছেই। চেষ্টা করছি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নগরবাসীর চাহিদাগুলো পূরণ করতে। ’

    সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজের অগ্রগতি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘এখনো অনেক কাজ করার বাকি আছে এ ক্ষেত্রে। পুলিশ, রাজউক, ওয়াসাসহ নগরে কাজ করা বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতা পেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতি পাবে বলে মনে করি। এরই মধ্যে কাজের অগ্রগতি অনেকটাই বেড়েছে। আশা করি আরো বাড়বে। ’

    ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে কিছুটা হেসে আনিসুল হক বলেন, ‘এখনো তো রাজনীতিতেই আছি। আরো সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে যদি জানতে চান তাহলে বলব, এখনো তেমন করে ভাবিনি। ’

    তবে ডিএনসিসি মেয়রের দুই বছর মূল্যায়ন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই প্রথম কোনো মেয়র পরিবেশের দিক দিয়ে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। নানা উদ্যোগ আর জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশকে সুন্দর করার নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ’ তবে তিনি বলেন, ‘বাসযোগ্য ঢাকা করতে হলে মেয়রের সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়রের একা ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর না দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। সব পরিকল্পনার সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো দরকার। সর্বোপরি একজন মেয়রকে সিটির কো-অর্ডিনেশনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া। তাহলে নাগরিকসেবা অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সূত্র: কালের কন্ঠ

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 33 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *