Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশেরও কম – Songbad Protidin BD

অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশেরও কম – Songbad Protidin BD

  • ১০-০৭-২০১৭
  • 210914dollar_kalerkanthoPicসংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদক: সদ্যবিদায়ী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে দেশে তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তিন হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২১৭ কোটি টাকা কম। যা গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ছিল তিন হাজার ৪২৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে বিদায়ী বছরের ১২ মাসে আগের বছরের তুলনায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫৮ কোটি ডলার বা এক দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ সারা বছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশেরও কম।
    শুধু তাই নয় এ সময় প্রধান রপ্তানিকারী তৈরিপোশাক খাতে আয়ের প্রবৃদ্ধি গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল দু্ই হাজার ৮১৫ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির হিসাবে যা মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। তৈরিপোশাক খাতে এর আগে মাত্র একবারই ২০০১-০২ অর্থবছরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ওই সময় ৪৫৮ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
    রপ্তানি আয়ে রেকর্ড নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে পণ্যের গড় মূল্য হ্রাস, পোশাক কারখানাগুলোতে চলমান অবকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম, অর্থনৈতিক মন্দাভাব, আমদানিকারক দেশগুলোতে চাহিদার কমতি, ইউরোর অবমূল্যায়ন ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা।

    সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। কিন্তু আয় হয়েছে তিন হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তৈরিপোশাক খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে দুই হাজার ৮১৫ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। এটি তিন হাজার ৩৮ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল দুই হাজার ৮০৯ কোটি ডলার।
    পরিসংখ্যান মতে, গত অর্থবছরে তৈরি পোশাকের মধ্যে নিটওয়্যার পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ৩৭৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। ওভেন পণ্যে আয় হয়েছে এক হাজার ৪৩৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে আয় হয়েছিল এক হাজার ৪৭৩ কোটি ডলার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এই নামমাত্র প্রবৃদ্ধি দেশের তৈরিপোশাক খাতের বাস্তবতারই চিত্র। এতে আমরা খুব অবাক হইনি। কেননা, এ খাত এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে রয়েছে কারখানাগুলোয় অবকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম, ইউরোর দরপতন ও শ্রমিক অসন্তোষের মতো বিষয়। তিনি বলেন, এ খাতে বর্তমান সহযোগিতাগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারের উচিত বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। আগামী দুই বছরের জন্য জাহাজীকরণে ৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনারও দাবি জানান তিনি।
    গবেষণা সংস্থা সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পণ্যের গড় মূল্যহ্রাস ও বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে এ ভাটা দেখা দিয়েছে। বিপরীতে আমাদের প্রতিযোগীরা ভালো করছে। তিনি তৈরিপোশাক পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের তাগিদ দিয়ে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন।

    (Visited 6 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *